সিমিন রহমানসহ সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিলেন আদালত
সিমিন রহমানসহ সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিলেন আদালত
NP
Published: February 16, 2026, 02:36 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ও তাঁর মা শাহনাজ রহমানসহ ছয়জনকে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল গুলশান থানার মামলা নং-২০(০২)২৪ হিসেবে। অভিযোগকারী ছিলেন ট্রান্সকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান–এর কন্যা শাযরেহ হক। অভিযোগে শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির কথা বলা হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, যে শেয়ার হস্তান্তর দলিল (ফরম-১১৭) নিয়ে অভিযোগ, তা উদ্ধার বা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ছাপানো কিছু স্ট্যাম্পকে ভিত্তি করে চার্জশিট দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শেয়ার ২০২০ সালেই হস্তান্তর সম্পন্ন হয় এবং তা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) কর্তৃক গৃহীত হয়। ২০২৩ সালের স্ট্যাম্প পূর্ববর্তী সময়ে ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না বলেও তারা যুক্তি দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগ গঠনের পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হলো।
১২ জুন ২০২০ তারিখে লতিফুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় একটি ডিড অব সেটেলমেন্ট সম্পাদন করেন। এতে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ রহমান, বড় মেয়ে সিমিন রহমান, ছোট মেয়ে শাযরেহ হক এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে কোম্পানির বোর্ড সভায় সেটি অনুমোদিত হয়।
ডিড অনুযায়ী, লতিফুর রহমান তাঁর মালিকানাধীন ট্রান্সকম লিমিটেডের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে ১৪ হাজার ১৬০টি সিমিন রহমানকে, ৪ হাজার ৭২০টি শাযরেহ হককে এবং ৪ হাজার ৭২০টি আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে হস্তান্তর করেন। ফরম-১১৭ জমা দেওয়ার পর RJSC শেয়ার হালনাগাদ করে শিডিউল-এক্স ইস্যু করে।
লতিফুর রহমান ১ জুলাই ২০২০ সালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরও কোম্পানির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। পরবর্তী করবর্ষগুলোতে সংশ্লিষ্টরা তাঁদের আয়কর রিটার্নে হস্তান্তরিত শেয়ার প্রদর্শন করেন।
২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় একই ধরনের অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২২ মার্চ একটি হত্যা মামলাও করা হয়, যেখানে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিযোগ তোলা হয়। চারটি মামলাই তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্ত শেষে পিবিআই ডিড অব সেটেলমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট বোর্ড সভার নথি জব্দ করে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞরা স্বাক্ষরগুলো সঠিক বলে মত দেন। একইভাবে নমিনি হিসেবে অর্থ উত্তোলন করে ৯ হাজার শেয়ার ক্রয়ের অভিযোগেও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। এসব মামলায় আদালত পূর্বেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে শাযরেহ হক কর্তৃক দায়ের করা চারটি মামলাই থেকে সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা অব্যাহতি পেলেন।