ঝলমলে আলো, পরিপাটি টেবিল আর অভিজাত পরিবেশ। চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের এই দৃশ্য সাধারণত শহরের অভিজাতদের চেনা। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় সেই দৃশ্যপট বদলে যায়। অতিথির আসনে বসে সমাজের অধিকারবঞ্চিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা, যাদের কাছে এমন পরিবেশ এত দিন ছিল শুধুই স্বপ্নের মতো।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ফ্যাশন ফর লাইফ'-এর উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত হয় 'গিফট এ ডিনার'। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে শতাধিক শিশু অংশ নেয়। অভিজাত পরিবেশে সম্মানের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে শুধু খাওয়াদাওয়াই ছিল না, ছিল শিশুদের প্রতিভা প্রকাশের মুক্তমঞ্চও। কবিতা আবৃত্তি, মুকাভিনয়, গান, নৃত্য ও দেশাত্মবোধক সংগীতে মেতে ওঠে পুরো মিলনায়তন। সবচেয়ে বেশি করতালি পড়ে অধিকারবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ব্যতিক্রমী ফ্যাশন র্যাম্প শোতে। আত্মবিশ্বাসী পদচারণায় র্যাম্পে ওঠা শিশুরা মুহূর্তেই বদলে দেয় পরিবেশ।
১২ বছর বয়সী জেসমিন চোখেমুখে লাজুক হাসি নিয়ে বলে, 'আমি আগে কখনো এমন বড় হোটেলে আসিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমরাও অনেক দামি।' স্টেজে উঠে পরিবেশনা করতে পারার আনন্দে ভাসছিল সে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিশুদের মধ্যে পোশাক ও উপহার বিতরণ করা হয়।
ফ্যাশন ফর লাইফের প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন মাসুমের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। বিশেষ অতিথি হিসেবে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রামের সহসভাপতি ও ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক আয়ান শর্মা, ৭১ টেলিভিশনের বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং জেসিআই বাংলাদেশের ডেপুটি ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আবু বকর শাহেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে জেসিআই চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মইন উদ্দিন নাহিদ ঘোষণা দেন, এ আয়োজনে অংশ নেওয়া ১০০ শিশুর এক বছরের শিক্ষা উপকরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে জেসিআই ও তাদের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টার। তিনি বলেন, এই শিশুরা দয়া নয়, সুযোগ চায়। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এসব শিশুর শিক্ষা ও বিকাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।