Wednesday, Feb 4, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের নিপীড়নে পশ্চিমাদের মৌনতার নিন্দা বাংলাদেশি নারী অধিকারকর্মীদের

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন অত্যাচার ও নিপীড়ন বিষয়ে মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের মৌনতা ও পরোক্ষ সমর্থনের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা।আজ রোববার বাংলাদেশের ৬৮ জন নারী অধিকার আন্দোলনকারীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা প্রকাশ করা হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) ও আইপিএসের (ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস) সদস্যদের, এবং ইসরায়েলের নানাবিধ আটকাগারের নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা ফিলিস্ত...

NP
Published: February 01, 2026, 06:43 PM
ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের নিপীড়নে পশ্চিমাদের মৌনতার নিন্দা বাংলাদেশি নারী অধিকারকর্মীদের

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন অত্যাচার ও নিপীড়ন বিষয়ে মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের মৌনতা ও পরোক্ষ সমর্থনের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা।

আজ রোববার বাংলাদেশের ৬৮ জন নারী অধিকার আন্দোলনকারীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) ও আইপিএসের (ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস) সদস্যদের, এবং ইসরায়েলের নানাবিধ আটকাগারের নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ, যৌন অত্যাচার এবং নিপীড়ন বিষয়ে মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের মৌনতা ও পরোক্ষ সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানাই।'

'আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, আইন প্রবক্তা ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদন থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়মিতভাবে যৌন অত্যাচার ও নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়, তাদের বারে বারে অপদস্থ করা হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের প্রতি এমন আচরণ করা হয়, যেন তাদের নিজেদের মানুষ এবং মানবিক আচরণের অযোগ্য মনে হয়।'

তাদের মতে, মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের ইসরায়েল রাষ্ট্র-অনুমোদিত ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারকে নিন্দা জানানোর অপরাগতা তাদের রাজনীতির বর্ণবাদীতাকে উন্মোচন করে। যে নারীবাদ অন্যত্র সংগঠিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ব্যাপারে সোচ্চার, কিন্তু ইসরায়েলের সংগঠিত অপরাধকে অপরাধ মনে করে না, আমাদের দৃষ্টিতে, তা নারীবাদ না। বরং যুদ্ধাপরাধে মদদ যোগানোর শামিল।

তারা আরও বলেন, নারী অধিকার আন্দোলন ন্যায্যতা, আত্মমর্যাদা এবং প্রত্যেকের বেঁচে থাকার অধিকারকে ধারণ করে। আমরা ইসরায়েলি যৌন অত্যাচার ও রাষ্ট্র-সহিংসতার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। উপরন্তু, আমরা মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠন, বহুলপরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং তাদের সহযোগীদের মৌনতা ও দ্বিচারিতার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা দৃঢ়ভাবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলি কারাগারে সংগঠিত প্রতিটি অত্যাচার, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার বিচার দাবি করি। মৌনতার অর্থ পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের সমর্থন ছাড়া আর কিছু নয়। 

রোজীনা বেগম (গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী), কাজলী সেহরীন ইসলাম (শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মারজিয়া প্রভা (অ্যাক্টিভিস্ট ও সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি), ড. দীনা সিদ্দিকী (শিক্ষক, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি), প্রাপ্তি তাপসী (অ্যাক্টিভিস্ট), সুস্মিতা পৃথা (লেখক ও গবেষক), মোসা. সুমাইয়া শিকদার (শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, মার্কেটিং বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), ফেরদৌস আরা রুমী (লেখক ও অধিকারকর্মী), ড. সায়দিয়া গুলরুখ (সাংবাদিক ও গবেষক), ড. ফাতেমা শুভ্রা (শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), খুশী কবির (সমন্বয়কারী, নিজেরা করি), তন্বী নওশীন (জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট, বার্লিন), মোশাহিদা সুলতানা (শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. শ্যামলী শীল (শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), ড. গীতি আরা নাসরীন (শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মাহীন সুলতান (সদস্য, নারীপক্ষ), ফাজিলা বানু লিলি (শিক্ষক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি; নারীপক্ষ), সাদিয়া আরমান (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী), ড. ফেরদৌস আজীম (শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; নারীপক্ষ), ইলিরা দেওয়ান (মানবাধিকারকর্মী), ড. নাসরিন খন্দকার (গবেষক, ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক, আয়ারল্যান্ড), ডা. সাদিয়া চৌধুরী (স্বাস্থ্যকর্মী, যুক্তরাষ্ট্র), সায়েমা খাতুন (লেখক ও নৃবিজ্ঞান গবেষক, যুক্তরাষ্ট্র), ঋতু সাত্তার (শিল্পী ও চিত্রনির্মাতা), ইসাবা শুহরাত (গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট), তাসলিমা আখতার (আলোকচিত্রী ও শ্রম-অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট), ড. আনমনা প্রিয়দর্শিনী (শিক্ষক, সাদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র), ড. ইলোরা হালিম চৌধুরী (শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বস্টন), সাদিয়া মরিয়ম (আলোকচিত্রী), সালমা আলী (আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী), বীথি ঘোষ (শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক), পদ্মিনী চাকমা (আলোকচিত্রী), কামরুন নাহার (অধিকারকর্মী), লায়লা পারভীন (শিক্ষক ও অধিকারকর্মী), স্নিগ্ধা সুলতানা (শিক্ষার্থী অ্যাক্টিভিস্ট, পাঠশালা), সাফিয়া আজীম (আলোকচিত্রী ও মনোবিজ্ঞানী), ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান (কবি ও সংগীতশিল্পী), জান্নাতুল মাওয়া (আলোকচিত্রী), সীমা দত্ত (নারী অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ), দিলশাদ সিদ্দিকী (নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক), আতিকা রোমা (সমাজকর্মী), ড. আইনুন নাহার (শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা (শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), ড. নাজনীন শিফা (শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি), ড. সামিনা লুৎফা (শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), রওশন আরা মুক্তা (কবি ও লেখক), মিথিলা মাহফুজ (শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি), রাকিবা আমাতুল করিম (ডাক্তার, শিক্ষক ও অ্যাক্টিভিস্ট), তামান্না মাকসুদ (শিক্ষা সহকারী, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা), শার্মিন্দ নিলোরমী (শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), ড. ইলোরা শিহাব উদ্দিন (শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে), মুক্তাশ্রী চাকমা (অধিকারকর্মী ও গবেষক), নাজিফা তাসনিম খানম তিশা (প্রকাশনা ও থিয়েটারকর্মী), মন্টি চাকমা (অ্যাক্টিভিস্ট), রুম্মানা জান্নাত (কবি), ড. সাদাফ নূর (গবেষক, লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন), সালমা আবেদীন পৃথি (আলোকচিত্রী), হানিয়্যুম মারিয়া খান (শিক্ষক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি), ডা. তাসনিম আজীম (নারীপক্ষ), সামিয়া রহমান প্রিমা (গবেষক ও সংবাদকর্মী), রেবেকা নীলা (শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক), মাহরুখ মহিউদ্দিন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউনিভার্সিটি প্রেস), ড. ফরিদা খান (শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো স্প্রিংস), তাসনিম সিরাজ মাহবুব (শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মাহফুজা হক নীলা (সাংস্কৃতিক সংগঠক), ওয়ার্দা আশরাফ (সমাজকর্মী, লেখক ও সংগীতশিল্পী), হানা আহমেদ (পিএইচডি গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা) এবং রেহনুমা আহমেদ (নৃবিজ্ঞানী ও লেখক)।