ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও ও আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য সিমিন রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা এবং অর্থনীতির উন্নতির জন্য খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার বাজারমুখী নীতির ফলে বেসরকারি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আসে।
শুক্রবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় সিমিন রহমান এ কথা বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়ার আপসহীন নীতির কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সময় ভ্যাট পলিসি, আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করে।
তৈরি পোশাক শিল্পে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন সিমিন রহমান। একইভাবে ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতির ফলে ওষুধশিল্পে গুণগত উন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বেড়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশ আজ ওষুধে নিজের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল।
সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় বিশ্বাস করতেন, ব্যবসা হতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে এবং উন্নয়ন হতে হবে মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। এসব গুণ তিনি নিজের বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত লতিফুর রহমানের জীবন ও কর্মে দেখেছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আজ নেই, কিন্তু তাঁর ত্যাগ, দৃঢ়তা এবং নীরব সাহস বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ তাঁকে হারায়নি, বাংলাদেশ তাঁকে ইতিহাসে অমর করেছে।
শোকসভায় দেশের শীর্ষ রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।