Tuesday, Feb 17, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

Business

ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার জালিয়াতি ও হত্যা মামলা: তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত সিমিন রহমান

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের রেখে যাওয়া শেয়ার বণ্টন নিয়ে ছোট মেয়ে শাজরেহ রহমানের দায়ের করা জালিয়াতি ও হত্যা মামলা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। সিআইডি (CID) ও পিবিআই-এর (PBI) তদন্তে দেখা যায়, ২০২০ সালের শেয়ার বণ্টনের দলিলটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং অভিযোগকারী নিজেই তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সিমিন রহমান ও তাঁর মা শাহনাজ রহমানকে সকল মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

NP
Published: February 17, 2026, 06:59 AM
ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার জালিয়াতি ও হত্যা মামলা: তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত সিমিন রহমান

বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ ট্রান্সকম গ্রুপ-কে ঘিরে শেয়ার বণ্টন নিয়ে করা মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতে অব্যাহতি পেয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান-এর পরিবার সদস্যরা।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ জুন লতিফুর রহমান একটি ডিড অব সেটেলমেন্ট সম্পাদন করেন। এতে ট্রান্সকমের মোট ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ার তাঁর তিন সন্তান সিমিন রহমান, শাজরেহ রহমান ও আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মধ্যে বণ্টন করা হয়। দলিল অনুযায়ী বড় মেয়ে সিমিন রহমান অন্য দুই ভাইবোনের তুলনায় বেশি সংখ্যক শেয়ার পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেয়ার বণ্টনের দলিলে তিন উত্তরাধিকারীই স্বাক্ষর করেন। পরে ট্রান্সকমের বোর্ড তা অনুমোদন দেয় এবং দলিলটি সরকারি সংস্থা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)-এ জমা দেওয়া হয়। একই বছরেই নিবন্ধন সংস্থা দলিলটি অনুমোদন করে।

তবে প্রায় চার বছর পর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাটকীয় মোড় নেয় বিষয়টি। ছোট মেয়ে শাজরেহ রহমান গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেন, শেয়ার বণ্টনের দলিল জাল। তিনি বড় বোন সিমিন রহমান ও মা শাহনাজ রহমানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনেন।

এর পাশাপাশি তিনি আরও একটি হত্যা মামলা করেন, যেখানে ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর জন্য সিমিন রহমানকে দায়ী করা হয়। যদিও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরশাদের মৃত্যু ওই অভিযোগের নয় মাস আগেই স্বাভাবিক কারণে হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি ও পিবিআই। তদন্ত শেষে সংস্থাগুলো জানায়, শেয়ার বণ্টনের দলিলটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং যে স্ট্যাম্পকে জাল বলে দাবি করা হয়েছিল, সেটি ২০২৩ সালে ছাপানো। অথচ দলিলটি তৈরি হয় ২০২০ সালে। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারী নিজেও দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা বণ্টনের সময় তাঁর সম্মতির প্রমাণ বহন করে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তা গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে সিমিন রহমান, তাঁর মা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুরো ঘটনাটি পারিবারিক ব্যবসায় উত্তরাধিকার ও শেয়ার বণ্টন নিয়ে আইনি কাঠামোর গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও নিবন্ধিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।