Wednesday, Feb 25, 2026 28°C

Concise and comprehensive global coverage.

General

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াচ্ছে সরকার

আগামী অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি আগের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।পাশাপাশি, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ দশমিক ৫ লাখ ব্যক্তি মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের ভাতা কর্মসূচিতে ২৯ লাখ উপকার...

NP
Published: January 27, 2026, 05:27 AM
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াচ্ছে সরকার

আগামী অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি আগের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।

পাশাপাশি, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ দশমিক ৫ লাখ ব্যক্তি মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের ভাতা কর্মসূচিতে ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ দশমিক ৭৫ লাখ নারী আগের ৬৫০ টাকার পরিবর্তে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। 

এছাড়া, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসে ৯০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। বাকি ১৮ হাজার ১০০ জন মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক উপবৃত্তি ও মেধা উপবৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি ও মেধা উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন করা হয়েছে। 

শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়ে মাসে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি বা মেধা উপবৃত্তি পাবেন। 
পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে মোট ৬৫ হাজার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক মা মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে মোট ৬০ লাখ পরিবার করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার ছয় মাস ধরে খাদ্য সহায়তা পায়, যেখানে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হয়।

আজ রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে আরও সুপারিশ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা এবং তাঁদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার।

এ ছাড়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন করে আরও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট জেলের সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত করার সুপারিশও করা হয়েছে।