ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ভোট কারচুপির অভিযোগকে অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ভোট কারচুপির মতো কোনো বিষয় নেই। সরকার আসন্ন নির্বাচনে কারও পক্ষ হয়ে কাজ করছে না।
আজ শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খড়মপুর এলাকায় হজরত শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ.) মাজার শরীফ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সরকার কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, এর জবাব মানুষই দেবে। মানুষ এবার প্রথমবারের মতো প্রকৃতভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। আগের নির্বাচনে রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার নজির থাকলেও এবার সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
তিনি আরও বলেন, আগের তিনটি নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন এবং কমিশনের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
শফিকুল আলম আরও বলেন, এ বছরের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ হবে। অতীতে বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে দেওয়া হয়নি, এমনকি গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এবার সেগুলো পুনরাবৃত্তি হবে না।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত কেবিনেট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কী পরিমাণ প্রস্তুতি নিয়েছেন, তা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রস্তুতির ভিত্তিতে সরকার দৃঢ়ভাবে বলতে পারে, নির্বাচন খুব ভালোভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটে সরকারের 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের জানার পরিধি সীমিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোটে সরকার 'হ্যাঁ' বা 'না' এর যেকোনো একটির পক্ষে অবস্থান নেয়। এ গণভোট হচ্ছে— সংস্কারের পক্ষে ভোট, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও অপশাসন ঠেকাতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, এই সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে ভোট না এলে আবার মানুষের অধিকার হরণ, ব্যাংক লুটপাট ও হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মতো ঘটনা ঘটবে।
ব্যাংক খাতের লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসবের দায় এখন ট্যাক্সপেয়ার জনগণের ওপর পড়েছে। এ কারণেই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, এ বিষয়ে মালিক পক্ষকেই জবাব দিতে হবে। অনেক সময় সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করেন পত্রিকার মালিকরাই।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সরাইল উপজেলায় এক উঠান বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমি শুনেছি, সরাইলের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ভোট কারচুপির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আপনারা আমার মানুষ, আমার ভাই। আপনারাই ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন।'