বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, 'একটি গোষ্ঠী তাদের বিষাক্ত দাঁত কিন্তু লুকিয়ে রাখছে। তাদের হিংস্র নখের থাবা বিভিন্ন পকেটে লুকিয়ে রেখে একেক সময় একেক কথা বলছে।'
'কখনো মুসলমানদের মিটিংয়ে যেয়ে বলছেন বেহেশতের ব্যবস্থা করে দেবেন। আবার অন্য ধর্মের মানুষদের বলছেন—না, আমরা কোনো শরিয়াহ আইন চালু করব না। তাদের টার্গেট একটাই কোনো মতে ক্ষমতায় গিয়ে নিজস্ব চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। সেই ভয়ঙ্কর চেহারা দেখতে জাতি আর চায় না,' বলেন তিনি।
এ সময় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলটির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, 'আমরা অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি এবং আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, একটি গোষ্ঠী, যারা একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছেন এবং করিয়েছেন, যারা মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছেন এবং করিয়েছেন, সেই গোষ্ঠী আবার তাদের অপতৎপরতা শুরু করেছেন এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা জোটের ছদ্মাবরণে তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করতে চাচ্ছেন। আমরা এও লক্ষ করছি, জনগণ যখন একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে ভোট দেওয়ার জন্য, ঠিক সে রকম একটি সময় নানা রকম ষড়যন্ত্রের কথাও আসছে আমাদের কানে।'
তিনি বলেন, 'অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার যে লড়াই আমাদের নেতা তারেক রহমান করছেন, সেই লড়াইয়ে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এর অর্থ এই না যে, আমরা একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের আন্দোলন বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের আন্দোলন আন্দোলনের জায়গায় আছে। যদি দেখি আবারও কোনো গোষ্ঠী প্রশাসনের ভেতরে বা বাইরে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, জনগণের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কোনো রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, শহীদ জিয়ার সৈনিকরা প্রয়োজনে সেই আন্দোলনকে আবারও মাঠে নিয়ে আসবে।'
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য। আপনারা লক্ষ করছেন, যখন একটি গোষ্ঠী নারীদের বন্দি করতে চাচ্ছে, তখন বিএনপি এ দেশের নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা চালু করেছে।'