দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নাইমুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন সিলেটের একটি আদালত।
জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আজ মঙ্গলবার সকালে সিলেট মহানগর দায়রা জজ মুন্সী আবদুল মজিদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন নাইমুল হক চৌধুরী। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের উপসহকারী পরিদর্শক বশির আহমেদ জানান, এই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়া দ্বিতীয় আসামি সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।
রোববার একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও আটজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এর আগেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আরও কয়েকজন কারাবন্দি রয়েছেন।
এজাহার অনুসারে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। ২০২৩ সালে ইউজিসির তদন্তে উঠে আসে, তৎকালীন উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রক্রিয়াগত বিধি লঙ্ঘন ও দুর্নীতি করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল সাবেক উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ২৫ এপ্রিল সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে নাইমুল হক চৌধুরী পরিচালক (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করেন।
এই মামলার প্রধান আসামি সাবেক উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী এখনো পলাতক।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে এবং সিন্ডিকেট বা ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয় মাসের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ২২০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বিধি লঙ্ঘন করে তাদের নিয়োগ নিয়মিত না করে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।