বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির যখন উন্নতি হচ্ছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কোভিডের নতুন একটি হাইলি মিউটেটেড ভ্যারিয়েন্ট, যার ডাকনাম দেওয়া হয়েছে ‘সিকাডা’ (Cicada)। বৈজ্ঞানিকভাবে BA.3.2 নামে পরিচিত এই ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)। দীর্ঘ সময় ধরে অনেকটা ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ বা গোপনে মিউটেশন ঘটিয়ে হঠাৎ সিকাডা পতঙ্গের মতো জনসমক্ষে আসায় বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী টি. রায়ান গ্রিগোরি এর এমন নামকরণ করেছেন। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ভাইরোলজিস্ট অ্যান্ড্রু পেকোসের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টটির স্পাইক প্রোটিনে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা একে বর্তমানের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও শক্তিশালী করে তুলেছে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে সিকাডা ভ্যারিয়েন্টটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ বা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই BA.3.2 ভ্যারিয়েন্টটি মূলত ২০২২ সালের ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্ট BA.3 থেকে উদ্ভূত। গত এক বছর ধরে এটি খুব ধীরগতিতে ছড়ালেও গত সেপ্টেম্বর থেকে ডেনমার্ক, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে, যেখানে বর্তমানে মোট সংক্রমণের প্রায় ৩০ শতাংশই এই ভ্যারিয়েন্টের দখলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যে একে 'ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মাউন্ট সিনাই-এর গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. অ্যাডলফো গার্সিয়া-সাস্ত্রে জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত সিকাডা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এটি অধিক সংক্রামক হলেও আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী নয়। তবুও এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাঙার সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।