আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর অংশ হিসেবে লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটতম থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটস্থ থানায় বৈধ অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
এ ছাড়া ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে 'রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫' অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে
বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।
আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা ও বহনে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনার মাধ্যমে সহিংসতা ও ভয়ভীতির আশঙ্কা কমবে। এটি একটি নিয়মিত, গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সরকার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান এবং রিটেইনার (আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ব্যক্তি) নিয়োগের নীতি নির্দেশিকা জারি করে।
নীতির আওতায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাইয়ের পর সরকার লাইসেন্স বা রিটেইনার দেবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই কাঠামোর অধীনে তাদের জন্য অনুমোদিত আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নির্বাচনের ফল প্রকাশের ১৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে, এরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হিসেবে গণ্য করা হবে।