বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হতে না দেওয়াই এবারের গণভোটের মূল প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত 'গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময়' সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলী রিয়াজ বলেন, ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে যে ব্যবস্থাটা তৈরি হয়েছিল, তাতে আমাদের নূন্যতম অধিকারগুলো আর ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেননি।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে এমন ব্যবস্থা ছিল এবং এখনো আছে, যাতে করে আরও একজন ফ্যাসিবাদী শাসকের উত্থান প্রতিরোধ করা খুব দুরহ হবে। এখন যেই ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে, সেই বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে আপনি চান কি চান না–এটাই গণভোটের মূল প্রশ্ন।
এসময় গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন-একটি রাজনৈতিক প্রার্থীদের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। গণভোটের ব্যালটে 'হ্যাঁ' ভোটের অর্থ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে সমর্থন, যা টিক চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যদি গণভোটে বিজয়ী হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলো এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের অধিকার সমান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি 'হ্যাঁ' ভোট জয়ী না হয়, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং কেউ তা রোধ করতে পারবে না।
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া দরকার বলে মত দেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।